1. [email protected] : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. [email protected] : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. [email protected] : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. [email protected] : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. [email protected] : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. [email protected] : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
ইতিহাসের আয়নায় চৈত্র সংক্রান্তি: উৎসব, পূজা নাকি সংস্কৃতির মিলনমেলা? | ঢাকা আওয়ার
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
পাঁচ জেলায় বন্যার শঙ্কা হামের টিকায় গাফিলতির প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইলে যমজ দুই ভাইয়ের সঙ্গে লতা-পাতার বিয়ে দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার ১.৭ গুণ বন্দি আটক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতে আরও ৫ হাজার ডাক্তার নেওয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী চালের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি বর্তমানে যথেষ্ট স্থিতিশীল : বাণিজ্যমন্ত্রী সীমান্ত হত্যা মানবাধিকারের লঙ্ঘন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নামাজের ইমামতি করে পালিয়েও রক্ষা নয়, দুই দিন পর গ্রেপ্তার গোলাম আজম আমাদের প্রান্তিক কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা : প্রধানমন্ত্রী জনগণের টাকা পাচার হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

ইতিহাসের আয়নায় চৈত্র সংক্রান্তি: উৎসব, পূজা নাকি সংস্কৃতির মিলনমেলা?

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
চড়ক উৎসব। ছবি: সংগৃহীত

বাংলা বর্ষপঞ্জির শেষ দিন- চৈত্র সংক্রান্তি। সময়ের ক্যালেন্ডারের এই তারিখ পুরোনোকে বিদায় জানানোর আবেগ এবং নতুনের আগমনের প্রতীক্ষার দিন। গ্রামবাংলার মাটি, নদী, কৃষি ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে মিশে থাকা এই দিনটি আজও বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত।

চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন সমাজে রয়ে গেছে। এটি কি শুধুই একটি ধর্মীয় পূজা, নাকি বাঙালির বহুস্তরীয় সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলা?

ইতিহাস, লোকাচার এবং সমাজচর্চার আয়নায় তাকালে দেখা যায়- চৈত্র সংক্রান্তি আসলে একক কোনো পরিচয়ে আবদ্ধ নয়। এটি একই সঙ্গে উৎসব, আচার, কৃষিভিত্তিক বিশ্বাস এবং লোকসংস্কৃতির এক জটিল সমন্বয়।

চৈত্র সংক্রান্তির ঐতিহাসিক শিকড়

চৈত্র মাস বাংলা বছরের শেষ মাস। এই মাসের শেষ দিনকে বলা হয় চৈত্র সংক্রান্তি- যার অর্থ ‘পরিবর্তনের সংযোগক্ষণ’।

লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, বাংলা মাসগুলোর নাম এসেছে নক্ষত্রভিত্তিক ঐতিহ্য থেকে। চিত্রা নক্ষত্র থেকে চৈত্র এবং বিশাখা থেকে বৈশাখ- এই ধারণা পুরাণ ও প্রাচীন জ্যোতির্বিদ্যার সঙ্গে যুক্ত।

তবে ইতিহাসবিদদের মতে, বাংলা সন বর্তমান রূপে গড়ে ওঠে মুঘল আমলে কৃষি ও রাজস্ব ব্যবস্থাকে সহজ করার প্রয়োজনে। সেই সময় থেকেই বাংলা বর্ষ গণনা কৃষিনির্ভর জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে।

ফলে চৈত্র সংক্রান্তি হয়ে ওঠে কৃষকের হিসাব-নিকাশ, প্রকৃতির পর্যবেক্ষণ এবং নতুন বছরের প্রস্তুতির একটি প্রতীকী সময়।

কৃষি, প্রকৃতি ও চৈত্র সংক্রান্তির সম্পর্ক

চৈত্র মাসে প্রকৃতি থাকে তার চরম রূপে- তীব্র গরম, শুকনো মাটি, ক্লান্ত জীবন। কৃষিজীবী সমাজ এই সময়েই প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে ভবিষ্যতের আশঙ্কা ও আশাবাদকে একসঙ্গে অনুভব করে। এই কারণেই চৈত্র সংক্রান্তি আনন্দ এবং প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের উৎসব।

গ্রামবাংলায় প্রচলিত শাকান্ন বা চৌদ্দ রকমের অনাবাদী শাক সংগ্রহের রীতি মূলত প্রকৃতির স্বাস্থ্য যাচাইয়ের প্রতীক। এই শাক সংগ্রহ করে বোঝা হতো- প্রকৃতি কতটা জীবন্ত, কতটা টেকসই। এখানেই চৈত্র সংক্রান্তি হয়ে ওঠে এক ধরনের পরিবেশগত সচেতনতার প্রাচীন রূপ।

গাজন ও চড়ক: ভক্তি, ত্যাগ ও লোকবিশ্বাস

চৈত্র সংক্রান্তির সবচেয়ে আলোচিত পর্ব হলো গাজন উৎসব এবং তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ চড়ক পূজা।

গাজন মূলত শিবভক্তির সঙ্গে যুক্ত একটি লোকউৎসব। এখানে ভক্তরা কঠোর ব্রত, সংযম ও আচার পালন করেন। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে ভক্তি, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক সমবেত চেতনার প্রকাশ ঘটে।

চড়ক পূজায় দেখা যায় এক ভিন্ন ধরনের লোকবিশ্বাস- যেখানে ভক্তির চূড়ান্ত রূপ হিসেবে শারীরিক কষ্ট সহ্য করার প্রথা প্রচলিত ছিল। যদিও আধুনিক সময়ে অনেক রীতি নিয়ন্ত্রিত বা বিলুপ্ত হয়েছে, তবুও এর সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না।

চড়ক ও গাজন একদিকে ধর্মীয় আচার, অন্যদিকে কৃষিভিত্তিক সমাজের গভীর মানসিকতা- যেখানে মানুষ প্রকৃতির শক্তির কাছে নিজেকে সমর্পণ করে বৃষ্টি, ফসল ও জীবনের মঙ্গল কামনা করত।

লোকজ খাবার: শরীর ও সংস্কৃতির সংযোগ

চৈত্র সংক্রান্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো খাদ্য সংস্কৃতি।

এই দিনে গ্রামে গ্রামে বিশেষ খাবার তৈরি হতো- ছাতু, দই, বেল দিয়ে শরবত, তেতো ডাল, শাক-সবজি, নারকেলের নাড়ু ইত্যাদি।

বিশেষ করে তেতো খাবার খাওয়ার রীতি শুধু স্বাদের জন্যই নয়, শরীরকে গ্রীষ্মের জন্য প্রস্তুত করার একটি প্রাচীন স্বাস্থ্যচর্চাও। খাবারের এই বৈচিত্র্য প্রমাণ করে চৈত্র সংক্রান্তি শুধু ধর্মীয় বিষয়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি লোকজ স্বাস্থ্যবিজ্ঞানও।

চৈত্র সংক্রান্তি: মিলনমেলা ও সামাজিক বন্ধন

গ্রামবাংলায় চৈত্র সংক্রান্তি পূজার পাশাপাশি সামাজিক মিলনমেলা হিসেবে দেখা হয়। এই দিনে মানুষ একে অপরের বাড়িতে যায়, খোঁজখবর নেয়, মেলা বসে, গান হয়, নাট্য ও লোকনাট্য পরিবেশিত হয়। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি, ধর্ম ও সম্প্রদায় একসঙ্গে অংশ নেয়।

পাহাড়ি অঞ্চলে বৈসাবি: একই চেতনার ভিন্ন রূপ

বাংলার সমতলের পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলেও চৈত্র সংক্রান্তি কেন্দ্র করে পালিত হয় বৈসাবি উৎসব।

এটি মূলত তিনটি উৎসবের সমন্বয়—

বিজু (চাকমা)
সাংগ্রাই (মারমা)
বৈসু (ত্রিপুরা)

এই উৎসবগুলোতে ফুল, পানি খেলা, পিঠা-পায়েস, প্রার্থনা এবং পারিবারিক মিলনের মধ্য দিয়ে পুরোনো বছরকে বিদায় জানানো হয়।

ইতিহাস বনাম আধুনিকতা: বদলে যাওয়া চৈত্র সংক্রান্তি

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চৈত্র সংক্রান্তির অনেক রীতি পরিবর্তিত হয়েছে। চড়ক মেলার কিছু ভয়ংকর আচার এখন আর প্রচলিত নয়। গ্রামীণ জীবনের অনেক অংশ শহুরে সংস্কৃতিতে হারিয়ে গেছে। আজকের শহরে চৈত্র সংক্রান্তি অনেক সময় পহেলা বৈশাখের প্রস্তুতির ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায়। তবুও গ্রামবাংলায় এর অস্তিত্ব এখনও জীবন্ত।

চৈত্র সংক্রান্তি: উৎসব, পূজা নাকি সংস্কৃতি?

ইতিহাসের পাঠ থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে চৈত্র সংক্রান্তি ধর্মীয় আচার। এতে শিবভক্তির গাজন রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি কৃষিভিত্তিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।ফসল ও প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত এ উৎসব। যা আধুনিক যুগে এসে সামাজিক মিলনমেলায় রুপ নিয়েছে। অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তি হলো একটি বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক বাস্তবতা।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ