সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ‘কেবিটি প্রেজেন্টস নোটিলাস’ নামে হাউসবোটের লোকজনের হামলায় ভৈরবগামী মালবাহী নৌকার মালিকের ছেলে আমান উল্লাহ আমিন (২২) নিহতের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে নিহতের বাবা হাউসবোটটির মালিকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ৩/৪ জনকে অজ্ঞাত রেখে মামলাটি করেন।
সোমবার রাত ৩টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত মালবাহী নৌকার মালিকের ছেলে আমিন কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের কলাপাড়া গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে।
মামলার আসামিরা হলেন- কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার পাঁচরা গ্রামের ফায়াদ বায়োজিদ, তার স্ত্রী শারমিন খান হীরা, সুনামগঞ্জ জেলার সদরের পশ্চিম তেঘরিয়ার গ্রামের আজাদ মিয়া, একেই এলাকার জাহাঙ্গীর আলম, মুন্সীগঞ্জ জেলার বামৈলের (পশ্চিমগাড়া) হোসাইন শাহ, শ্রীনগর থানার সেলামতি গ্রামের উসামা বিন হাছান, বান্দরবান জেলার আলীকদম থানার রতীচন্দ্রপাড়ার জয় ত্রিপুরা, তাহিরপুর থানার আনোয়ারপুর গ্রামের হাবিব মিয়া, ধরুন গ্রামের দুলাল মিয়া, বরিশাল জেলার গৌরনদী থানার ধানডোবার রাজীব ভূইয়া, খুলনা জেলার রুপসা থানার সিংগেরচর গ্রামের মনিরুল খানসহ আরও ৩/৪ জন।
এই ঘটনায় হাউসবোটের মালিক তার স্ত্রীসহ ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
তাহিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুশংকর পাল জানিয়েছেন, হাউসবোটটি পুলিশ জব্দ করেছে। বুধবার সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তারদের আদালত পাঠানো হয়েছে।
নিহতের বাবা কামাল হোসেন জানান, আমাকে আটক করে মারধর করেছে। আমার ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পরও তারা নারী নির্যাতনের মামলা দেবে বলে হুমকিও দেয়। তাদের হাত নাকি অনেক লম্বা। আমি ন্যায় বিচার চাই।
সোমবার রাত ৩টার দিকে উপজেলা বালিজুড়ী ইউনিয়নের আনোয়ারপুর-পাতারী এলাকায় হাউসবোটের ১০-১৫ লোকজন মালামাল পরিবহনকারী নৌকার উপর হামলা চালায় মালবাহী নৌকাটি ধাক্কা দেয় বলে। এসময় নৌকায় ৫ জন যাত্রী। সবাই নৌকা থেকে রক্তি নদীতে লাফিয়ে পড়ে সাঁতরে তীরে উঠলেও আমান উল্লাহ আমিন নিখোঁজ ছিল। বিকালে তার লাশ নদীতে ভেসে ওঠে। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।