1. mistake.rocky@gmail.com : মো: সরোয়ার সরদার : মো: সরোয়ার সরদার
  2. dhakahour@gmail.com : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক : ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  3. sarowar.rocky@gmail.com : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি : আসিফ অনিক, খুবি প্রতিনিধি
  4. sadakmostafa5@gmail.com : Sadak Mostafa : Sadak Mostafa
  5. info@dhakahour.com : বিশেষ প্রতিনিধি : বিশেষ প্রতিনিধি
  6. yfmahmud82@gmail.com : Yousuf Mahmud : Yousuf Mahmud
ইরান নিয়ে মহানবী (সা.) এর ভবিষ্যদ্বাণী | ঢাকা আওয়ার
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৫:৪১ অপরাহ্ন

ইরান নিয়ে মহানবী (সা.) এর ভবিষ্যদ্বাণী

ঢাকা আওয়ার ডেস্ক
  • মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক মোড় নিয়েছে। দুই পক্ষই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে একে অপরের ওপর।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ সংঘাত। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত বড় পরিসরে গড়ালে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিতে পারে। এমনকি অনেকে এটিকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন।

তবে ইসলামি বিশ্বের একটি অংশ এমন পরিস্থিতিকে কেয়ামতের পূর্ব লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করছেন। কারণ, বহু শতাব্দী আগেই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কিছু ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, যার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির বিস্ময়কর মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেক ইসলামি চিন্তাবিদ।

একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, খোরাসান থেকে একদল সৈন্য কালো পতাকা নিয়ে আগমন করবে। কেউ তাদের থামাতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা বায়তুল মুকাদ্দাসে সে পতাকা উড়ায়।

এই হাদিসটি নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে আলোচনা চলেছে ইসলামি জগতে।

ইতিহাসবিদদের মতে, খোরাসান বলতে বোঝানো হয়েছে একটি বিস্তৃত অঞ্চলকে-যার মধ্যে বর্তমান ইরান, আফগানিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের কিছু অংশ রয়েছে। এর অধিকাংশ এলাকাই আজকের ইরানের ভেতরেই পড়েছে।

হাদিসটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই কালো পতাকাধারী বাহিনী আল আকসা মসজিদ তথা বায়তুল মুকাদ্দাসে পতাকা উত্তোলন করবে। অর্থাৎ, তার আগ পর্যন্ত পবিত্র মসজিদটির নিয়ন্ত্রণ মুসলিমদের হাতে থাকবে না।

১৯৮০ সালে ইসরায়েল একটি আইন পাশ করে জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী ঘোষণা করে। যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, বাস্তবে এখনও জেরুজালেম এবং আল আকসা মসজিদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ইসরায়েলের দখলে।

অপর একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন তোমরা খোরাসান থেকে কালো পতাকা দেখতে পাবে, তখন তাদের কাছে চলে যেও। কারণ, তাদের মধ্যেই আছেন আল্লাহর খলিফা-ইমাম মাহাদী।

এই হাদিসদ্বয়ের সমন্বয়ে বহু ইসলামি আলেম বিশ্বাস করেন, খোরাসান থেকে আগত সেই কালো পতাকার বাহিনীর নেতৃত্বে থাকবেন ইমাম মাহাদী এবং তারা বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয় করবেন। এটি কেয়ামতের আগে অন্যতম বড় আলামত বলে মনে করা হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরেকটি বিষয় উঠে আসে-তা হলো আল-মালহামা, যাকে অনেক ইসলামি বর্ণনায় ‘মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। হাদিস অনুযায়ী, এই যুদ্ধের মাধ্যমে ইমাম মাহাদীর নেতৃত্বে দুনিয়ায় পুনরায় একটি ইসলামি খিলাফতের প্রতিষ্ঠা হবে।

হাদিসের আলোকে ইরান ও পারস্য সম্পর্কিত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে আলোচনা করা হলো:

১. ঈমান ও জ্ঞানের উচ্চ শিখরে আরোহণ

সহিহ মুসলিমের একটি বিখ্যাত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি (সা.) সালমান ফারসি (রা.)-এর ওপর হাত রেখে বলেছিলেন, যদি ঈমান থুরাইয়া তারকায় (মহাকাশের একটি নক্ষত্রপুঞ্জ) গিয়েও পৌঁছায়, তবে পারস্যের কিছু লোক সেখান থেকেও তা অর্জন করে নিয়ে আসবে। এই ভবিষ্যৎবাণী সত্য হয়েছে মধ্যযুগে, যখন ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম আবু হানিফা এবং ইবনে সিনার মতো পারস্য বংশোদ্ভূত মনীষীরা ইসলামি জ্ঞান ও বিজ্ঞানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

২. সালমান ফারসি (রা.) ও আহলে বাইত

পারস্যের সন্তান হযরত সালমান ফারসি (রা.) ছিলেন সত্যের সন্ধানী এক মহান সাহাবী। নবীজি (সা.) তাকে এতোটাই সম্মান দিতেন যে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, সালমান আমার পরিবারের (আহলে বাইত) অন্তর্ভুক্ত। তার হাত ধরেই পারস্যে ইসলামের জয়যাত্রা এবং নবীজির বিশেষ দোয়ার সূচনা হয়।

৩. খোরাসান ও কালো পতাকাবাহী দল

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, শেষ জামানায় খোরাসান (যার বড় অংশ বর্তমান ইরানে অবস্থিত) থেকে কালো পতাকাবাহী একটি দল বের হবে। তারা সত্যের পক্ষে লড়াই করবে এবং ইমাম মাহদীর আগমনের পথ প্রশস্ত করবে। বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা অনেককে এই হাদিসের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

৪. দাজ্জাল ও আসফাহানের ৭০ হাজার অনুসারী

সহিহ মুসলিমের ২৯৪৪ নম্বর হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে যে, শেষ জামানায় দাজ্জালের প্রধান অনুসারী হবে ইরানের আসফাহান শহরের ৭০ হাজার ইহুদি, যারা বিশেষ ধরনের চাদর পরিহিত থাকবে। আজও আসফাহানে একটি উল্লেখযোগ্য ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করে, যা নবীজির নবুয়তের এক জীবন্ত নিদর্শন।

৫. জ্ঞান বিজ্ঞানে অনারবদের আধিপত্য

নবীজি (সা.)-এর ইঙ্গিত অনুযায়ী, আরবরা একসময় জ্ঞানচর্চায় পিছিয়ে পড়লেও অনারবরা (বিশেষ করে পারস্যের লোকরা) ইসলামের ঝাণ্ডা তুলে ধরবে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, সিহাহ সিত্তাহর (হাদিসের প্রধান ৬টি কিতাব) অধিকাংশ সংকলকই ছিলেন পারস্য অঞ্চলের।

৬. সিফফিনের যুদ্ধ ও পারস্যের ভূমিকা

ইসলামের প্রাথমিক যুগের গৃহযুদ্ধ বা সিফফিনের যুদ্ধে পারস্যের নওমুসলিমরা হযরত আলী (রা.)-এর পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। আলী (রা.) তাদের সম্পর্কে বলেছিলেন যে, তারা এমন এক জাতি যাদের সম্পর্কে নবীজি (সা.) আগে থেকেই প্রশংসা করে গেছেন।

৭. ভাষা ও সংস্কৃতির স্বকীয়তা

পারস্যের মানুষ ইসলাম গ্রহণ করলেও নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেনি। বার্নার্ড লুইসের মতে, ইরান ইসলামি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তারা আরবি হয়ে যায়নি। নবীজির একটি ইশারায় জিব্রাইল (আ.) জানিয়েছিলেন যে, প্রতিটি জাতি তাদের নিজস্ব ভাষায় আল্লাহর প্রশংসা করতে পারে, যা পারস্যের নিজস্ব তাফসির ও সাহিত্যের ভিত্তি গড়ে দেয়।

৮. মজলুমের পক্ষে দাঁড়ানো ও ইনসাফ

হাদিসে ইমাম মাহদীর শাসনামলে সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টনের কথা বলা হয়েছে। ইরানের বর্তমান ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব ইমাম মাহদীর আগমনের প্রতীক্ষা এবং একটি ইসলামি সমাজ গঠনের যে দাবি করে, তা অনেক ক্ষেত্রে এই আধ্যাত্মিক চেতনার সাথে সম্পর্কিত।

৯. শেষ জামানার মহাযুদ্ধ

হাদিসে ফিতনা ও হত্যাকাণ্ডের যে আধিক্যের কথা বলা হয়েছে, আধুনিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির যুগে তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। পারস্য অঞ্চল এই সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রে অবস্থান করছে, যা কিয়ামতের আলামত হিসেবে বর্ণিত মহাযুদ্ধের (মালহামা) ইঙ্গিত হতে পারে।

১০. মুসলিম উম্মাহর ঐক্য

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক আলেমগণ সর্বদা মুসলিম ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। নবীজি (সা.) বলেছেন, আরব বা অনারব কারো ওপর কারো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাকওয়ায়। এই মূলমন্ত্রই ইরানসহ পুরো মুসলিম বিশ্বের টিকে থাকার চাবিকাঠি।

পরিশেষে, ইরান বা পারস্য সম্পর্কে এই ভবিষ্যৎবাণীগুলো আমাদের সতর্ক করার এবং ঈমান মজবুত করার জন্য। কিয়ামতের সঠিক সময় আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না, তবে নবীজি (সা.)-এর প্রতিটি কথা যে ধ্রুব সত্য, তা বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিই প্রমাণ করছে।

শেয়ার করুন

এই বিষয়ের আরও সংবাদ