মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার বিশ্ববাজারে তেলের দাম পতন অব্যাহত রয়েছে। আমদানিকারকদের উদ্বেগ ছাপিয়ে তেলের দাম এখন ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছে। খবর রয়টার্সের।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের চুক্তিভিত্তিক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ১ দশমিক ২২ ডলার বা ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭২ দশমিক ৫২ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ০২ ডলার বা ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৬৯ দশমিক ৩২ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। উভয় চুক্তির ক্ষেত্রেই তেলের এই দাম গত ২৭ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন।
বাজার বিশ্লেষক আইজির টনি সাইকামোর এক নোটে জানিয়েছেন, মাত্র দুই সপ্তাহ আগের ধারণাকে পেছনে ফেলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল বাজারে প্রত্যাশার চেয়েও অনেক দ্রুত গতিতে ফিরে আসছে। এই আকস্মিক পতন অনেক ব্যবসায়ীকেই চমকে দিয়েছে। গত বুধবারও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ ডলারের বেশি কমেছিল।
বুধবার (২৪ জুন) এক ফোরামে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল এখন ইরান যুদ্ধ পূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থার কাছাকাছি পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২০ মিলিয়ন (২ কোটি) ব্যারেল তেল এই প্রণালি পার হয়েছে। তবে প্রণালিটি সম্পূর্ণ মাইনমুক্ত করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগার কারণে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা দেরি হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে গত সপ্তাহে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ফলেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। জটিল রাজনৈতিক বিষয় ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য এই চুক্তিতে ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। মার্কিন জ্বালানি সচিব আশ্বস্ত করেছেন, এই চুক্তি শেষ পর্যন্ত স্থায়ী না হলেও প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হবে না। ইরান এটি আর বন্ধ করতে পারবে না।
এদিকে ট্যাংকারগুলোর নিরাপদ ও দ্রুত প্রস্থানের জন্য সাময়িক বিকল্প রুট চালু করেছে ওমান, যা আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) সমন্বয় করছে। প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান, ইরাক ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ওমান সফর করেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থেকে সাময়িক রেহাই পাওয়ায় ইরানও তাদের তেল বিক্রি বাড়াতে প্রস্তুত হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও কমিয়ে দিয়েছে।
আর্থিক পরামর্শক সংস্থা ম্যাককোয়ারির বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সরবরাহ চেইন খাপ খাইয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম দ্রুতই প্রাক-যুদ্ধকালীন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। তাদের হিসাব মতে, বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেল প্রতি ৬৭ ডলার ও ডব্লিউটিআইর দাম ৬২ ডলারে নেমে আসতে পারে। উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই গড় ছিল যথাক্রমে ৯৪ ও ৮৭ ডলার।
গত বুধবার মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ শোধনাগারের চাহিদা ও সরকারি জরুরি রিজার্ভ থেকে তেল ছাড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মোট অপরিশোধিত তেলের মজুত ১৯৮৪ সালের পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। তবে এই তথ্যের চেয়েও ব্যবসায়ীদের মূল নজর হরমুজ প্রণালি সচল হওয়ার দিকে থাকায় মার্কিন মজুত হ্রাসের খবরটি বাজারের দরপতন ঠেকাতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।