বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ২৫১ সদস্যকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে। ঘোষিত কমিটিতে স্থান পেয়েছে রাজবাড়ী জেলার দুই যুবদল নেতা মাহফুজুর রহমান মাহফুজ ও খায়রুল আনাম বকুলের নাম। এতে উচ্ছাস ও কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আস্থা প্রকাশ করছে রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপি’র অন্যান্য সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে যুবদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষাণার তথ্য জানানো হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কমিটির অনুমোদন করেন।
যুবদলের ঘোষিত কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রাজবাড়ী জেলার সন্তান মাহফুজুর রহমান মাহফুজকে কেন্দীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। মাহফুজ রাজবাড়ী জেলা সদরের ভবানীপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। পড়াশোনার উদ্দেশ্যে ঢাকায় অবস্থান কালে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হয় মাহফুজ। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের টুকু-আলিম কমিটির সদস্য হিসেবে জয়াগা করে নেন তিনি। এরপর রাজিব-আকরাম কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান মাহফুজ। সর্বশেষ গত ২২ ফেব্রুয়ারি যুবদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করলে মাহফুজকে কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়।
যুবদলের ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটির তালিকায় রাজবাড়ী জেলার আরও এক সন্তান খায়রুল আনাম বকুলের নাম স্থান পায়। বকুল রাজবাড়ী জেলাবাসীর কাছে ভিপি বকুল নামে পরিচিত। বর্তমানে তিনি রাজবাড়ী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করলে খায়রুল আনাম বকুলকে ফরিদপুর বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।
বকুল রাজবাড়ী জেলা সদরের সজ্জনকান্দা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। যুবদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকায় ৯৩ নাম্বারে খায়রুল আনাম বকুলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে খায়রুল আনাম বকুল রাজবাড়ী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়। এরপর রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় যুবদল বকুলকে রাজবাড়ী জেলা যুবদলের আহ্বায়কের দায়িত্ব দেয়। বর্তমানে ভিপি বকুল রাজবাড়ী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি যুবদলের কেন্দ্রীয় পূণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হলে রাজবাড়ী জেলার যুবদল নেতা ভিপি বকুলকে ফরিদপুর বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।
যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাজবাড়ী জেলার দুই যুবদল নেতার নাম থাকা প্রসঙ্গে রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক বলেন, ‘যুবদলকে আমরা আমাদের অভিভাবক সংগঠন বলে মনে করি। তারা ছাত্রদল করা অবস্থায় আমরা তাদের হাত ধরেই ছাত্র রাজনীতিতে এসেছি। কেন্দ্রীয় যুবদলের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে মাহফুজ ও বকুল ভাইকে স্থান দেয়ায় আমরা দলের দায়িত্বশীলদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তারা যোগ্য নেতৃত্বকে বেছে নিয়ার পাশাপাশি আমাদের রাজবাড়ীকে মূল্যায়ন করেছেন।’
রাজবাড়ী পৌর বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর হোসেন বলেন, ‘এটা রাজবাড়ীর জন্য গর্বের। এর আগেওে কেন্দ্রের সদস্য পদ পেয়েছিল আতা কাকা; সেটাও আমাদের গর্বের ছিল। এবার কেন্দ্রীয় যুবদলের দায়িত্বশীলরা রাজবাড়ীর দুই যোগ্য নেতাকে বেছে নিয়েছেন। সেই সাথে রাজবাড়ী জেলার নেতাকর্মীদের পজেটিভ (ইতিবাচক) বার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা কেন্দ্রের বার্তাকে পজিটিভ (ইতিবাচক) ভাবে দেখছি।
মাফুজ ও বকুলের প্রতি কেন্দ্রের মূল্যায়নকে রাজবাড়ী জেলা বিএনপি ভালো ভাবে নেবে বলে আশা প্রকাশ করে তানভীর হোসেন আরও বলেন, এদের মতো (দলের জন্য ত্যাগী) মানুষ কেন্দ্রে ভালো অবস্থানে গেলে রাজবাড়ী জেলা বিএনপিও সামনে এগিয়ে যাবে। এ সময় তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ববৃন্দকে ধন্যবাদ দেন।
এর আগে গত ২০২২ সালের ২২ মে যুবদলের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছিল।
তখন ৮ সদস্যের এ আংশিক কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছিল সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে, যিনি আগের কমিটির (২০১৭) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
একইসাথে এ কমিটির সাধারণ সম্পাদক করা হয় আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে, যিনি বিগত কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে আনা হয়েছে মামুন হাসানকে, যিনি আগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন। সহ-সভাপতি পদ দেয়া হয়েছিল নুরুল ইসলাম নয়নকে, যিনি আগের কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে ছিলেন। সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক করা হয় শফিকুল ইসলাম মিল্টনকে, ২ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক করা হয় গোলাম মওলা শাহীনকে।
টুকু-মুন্না পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেয়েছেন ইসাহাক সরকার, যিনি ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও দফতর সম্পাদক করা হয়েছে কামরুজ্জামান দুলালকে (সহ-সভাপতির পদ মর্যাদা)।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি সাইফুল আলম নিরবকে সভাপতি ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের পাঁচ সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।